শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

( জাগো কুমিল্লা.কম)

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপরহরণ, জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ভাই-বোনসহ কথিত প্রেমিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ ও ছবি।

এর আগে ৬ জুলাই অপহরণ করা হয় উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজারের বেকারী ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে। তার স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার রাতব্যাপী কয়েক দফায় অভিযান চালিয়ে কথিত প্রেমিকা পারভীন আক্তার, সহযোগী সুমাইয়া আক্তার ও তার ভাই অভিকে গ্রেফতার করে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।আটক তিনজনকে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দির গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুন নূর জানান, একটি সাধারণ ডায়েরীর তদন্ত করতে গিয়ে বড় একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে মোটা অংকের টাকা আদায় করতো। ভূক্তভোগীরা মানসম্মান বা লোকলজ্জার কারণে আমাদের কাছে আসতো না। এ ঘটনায় ৬ জনের নামে মামলা করা হয়েছে।

আবদুন নূর বলেন, রোববার রাতের অভিযানে পুলিশ প্রথমে সুমাইয়া ও তার ভাই অভিকে আটক করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে গৌরীপুর ভুলিরপাড়ের মোতালেব মিয়ার বাড়ি থেকে পারভীন আক্তার প্রিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়।

পারভীন লক্ষীপুর জেলার রামনগর থানার আইয়ানগর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। সুমাইয়া ও অভি চান্দিনা উপজেলার দলপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী সফিউল্লার পুত্র ও কন্যা।

জানা যায়, গত ৬ জুলাই উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজারের বেকারী ব্যবসায়ী জাকির হোসেন নিখোঁজ হন। ওইদিন রাতে তার স্ত্রী সেলিনা বেগম দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরীর সূত্র ধরেই তদন্তে নামেন গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-সহকারী পরিদর্শক ফিরোজ। এরই মধ্যে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বেকারী মালিকের ম্যানেজারের নিকট ফোন আসে।

ওই ফোন কলের সূত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠে নামেন পুলিশ অফিসার আব্দু নুর ও উপ-পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। এর মধ্যে অপহরণকারীদের সাথে বিকাশে কিছু টাকার লেনদেন করা হয়। পুলিশী তৎপরতার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অপহরণকারীরা পরদিন রাতে ছেড়ে দেয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে। ছাড়া পেয়েই তিনি দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

জাকির হোসেনের দায়েরকৃত অভিযোগ মতে, পারভীন আক্তার প্রিয়ার সাথে রং নাম্বারে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে আসেন গৌরীপুরে। পরে পারভীন তাকে নিয়ে গেীরীপুর বাজারের আরজু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া কুহিনুর বেগমের বাসায় যান। সেখানে কুহিনুর বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও ছেলে শফিকুর রহমান অভিসহ কয়েকজন জাকির হোসেনকে বাসায় আটকে মারধর করে পারভীনের সাথে অশ্লীল ভঙ্গিতে ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করতে বাধ্য করে। এরপরই তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে এই ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: