শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১০:২১ অপরাহ্ন

( জাগো কুমিল্লা.কম)

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অভিযানে জেলার দাউদকান্দির ইসলাম হত্যা মামলার আসামী মোফাজ্জল হোসেন এবং তার সহযোগী সুমন খানকে ২০ রাউন্ড গুলি ভর্তি ২টি বিদেশী পিস্তল ও ১টি রিভলভারসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জেলার তিতাস উপজেলার গাজীপুর ভূইয়া বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। দুপুরে ডিবির এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে গত ২ মে রাতে দাউদকান্দি উপজেলার বাজরা গ্রামের মো. ইসলামকে (৩৫) ঘুমন্ত অবস্থায় গুলি চালিয়ে এবং এলোপাতারি কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার পরদিন তার স্ত্রী সুমী আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

অভিযানে অংশ নেয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই মোঃ শাহ্ কামাল আকন্দ পিপিএম জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির ওসি নাছির উদ্দিন মৃধাসহ ডিবি ও তিতাস থানা পুলিশ তিতাস উপজেলার গাজীপুর ভুইয়া বাড়ীতে অভিযান চালায়।

এ সময় একটি টিনসেড বিল্ডিং থেকে ইসলাম হত্যা মামলার আসামী মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (৩১) কে ১২ রাউন্ড গুলিসহ ২টি বিদেশী পিস্তল এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমন (৩৮) খানের নিকট থেকে ৮ রাউন্ড গুলি ভর্তি ১টি বিদেশী রিভলভার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোফাজ্জল জেলার তিতাস উপজেলার গাজীপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের পুত্র এবং সুমন খান একই জেলার দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাবুল খানের পুত্র। ডিবির ওসি নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন ইসলাম হত্যার মিশনে সরাসরি অংশ নিয়েছিল।

এ হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃতরা আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে তার নাম প্রকাশ প্রকাশ করেছিল। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে উভয়ের বিরুদ্ধে তিতাস থানায় অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করার পর এরই মধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উৎঘাটন করার পাশাপাশি হত্যার মিশনে সরাসরি অংশ নেয়া একাধিক আসামীকে গ্রেফতার হয়েছে। গত ২ জুন রাতে দাউদকান্দি এলাকা থেকে ঘাতক মাসুদ, রুবেল ও ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এদের মধ্যে মাসুদ ও রুবেল একই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দেয়। পরে ১২ জুন রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম এর নেতৃত্বে ডিবির একটি দল নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন দেলাকে গ্রেফতার করে।

পরে তাকে নিয়ে দাউদকান্দির চরচারুয়া গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার দেখানোমতে এক রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি রিভলভার উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের জাহেদ মিয়ার ছেলে। সর্বশেষ ২টি পিস্তলসহ গ্রেফতার হলেন হত্যার মিশনে অংশ নেয়া মোফাজ্জল হোসেন। হত্যাকান্ডে জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতারেও অভিযোন চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: