শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

(নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা)

অপারেশন থিয়েটারে থাকা অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকারের মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেক্শন, অপারেশনে ব্যবহৃত মেয়াদ উত্তীর্ণ সেলাইয়ের সুতা, প্যাথলজিকেল কাজে ব্যবহৃত মেয়াদ উত্তীর্ণ রিয়েজেন, অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান, সার্টিফিকেট বিহীন এক্সে টেকনিশিয়ান, অপরিস্কার ও অপরিচ্ছন্ন ওটি কক্ষে অপারেশন করা সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকায় তেলীকোনা চৌমুহনীতে অবস্থিত মা মনি হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমান ও তিন টেকনিশিয়ানকে দায়ী করে প্রতিজনকে ১ মাস করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

একটি হার্ট এট্যাক রোগীকে তাৎক্ষণিক জীবন বাঁচানোর জন্য যে ইনজেকশন দেওয়া হয়, তা ছয় মাস আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে আছে। যা রীতিমত মানুষের জীবন নিয়ে খেলা।

দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আরডিসি এ কে এম সাইফুল আলম ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা: সৌমেন রায় এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মা মনি হাসপাতালে এ অভিযান চালানো হয়। তার আগে পাশ্ববর্তী ডা: মোসলেহ উদ্দিন বাবুল এর পরিচালনাধীন দি আমিন প্যাথলজিকেল ল্যাবরেটরীতে অবৈধভাবে রক্ত বিক্রির অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা টিম পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে ডা: মোসলেহ উদ্দিন বাবুলকে না পেয়ে এবং তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় অভিযান পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তীতে মা মনি হাসপাতালে এ অভিযান করা হয়।

এ অভিযান ক্রমান্বয়ে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী আরডিসি এ কে এম সাইফুল আলম। মা মনি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওটি কক্ষে থাকা ব্যবহৃত প্রায় সকল ইনজেকশন ৬-৭ মাস মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এছাড়া অপারেশনে ব্যবহৃত সেলাই সুতার একই অবস্থা। ওটিবয় মো: সেলম মিয়া (৩৫)কে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এর অপরাধ নিজ মূখে স্বীকার করেছেন, প্যাথলজি বিভাগের টেকনিশিয়ান আল আমিন (২৩) কে মেয়াদোত্তীর্ণ রিয়েজেন ব্যবহার করার বিষয়ে প্রশ্ন করায় তিনিও অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং এক্সে টেকনিশিয়ান মো: বাপ্পি (২৪) কে প্রশ্ন করায় অভিজ্ঞতার তেমন কোন সনদ দেখাতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারায় মামলা দায়ের করেন এবং অভিযুক্ত তিনজনকে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করে জেলে পাঠান।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালত হাসপাতালের সিও মো: মকবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এর দায় স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এ যাতীয় অনিয়ম হবেনা বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে মা মনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে ভ্রাম্যমান আদালত তাৎক্ষণিক নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করে নগদ অর্থ আদায় করেন। এ বিষয়ে ভ্রাম্যমান টিমের এমওসিএস ডা: সৌমেন রায় বলেন, এভাবে মেয়াদ উত্তেীর্ণ ইনজেকশন ও সেলাই সুতা যে কোন রোগীর জীবন বিপন্ন হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই এটি একটি গুরুত্বর অপরাধ।

ভ্রাম্যমান আদালতের আরডিসি এ কে এম সাইফুল আলম বলেন, আমরা জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা সেবা ও জনসচেতনতার রক্ষায় রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্যাথলজিকেল ক্লিনিক গুলোতে অভিযান করে যাচ্ছি।

যে কোন অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, একটি হাসপাতালে অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন বা রিয়েজেন থাকা অত্যন্ত দু:খজনক। এটি একবারেই চরম অপরাধ বলে আমি মনে করি। প্রথম বারের মত বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মা মনি হাসপাতালকে এ জরিমানা ও জেল দেয়া হলো। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে আরো কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।

অপরদিকে ভ্রাম্যমান আদলত কাজ শেষ করে যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় স্থানীয় কিছু সংখ্যক উচ্ছৃংখল যুবক সংবাদ কর্মীদের কাজে বাধা দেয় এবং তাদের ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাংচুরের চেষ্টা ও তাদের লাঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভিডিওটি দেখতে  এখানে ক্লিক করুন:

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: