বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাস্তায় ভ্যানগাড়িতে গাছের চারা বিক্রি ও টিউশনি করে পড়াশুনার খরচ চালিয়ে খুলনা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে চান্স পাওয়া কুমিল্লার তাজগীর হোসেনের ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা মুক্ত করল কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ।

রোববার ( ১০ এপ্রিল) কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান ২৫ হাজার টাকার একটি চেক প্রধান করে তাকে । এ সময় উপস্থিত ছিল লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থানীয় সরকার বিভাগে পদন্নোতি প্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী সচিব কে এম সাইফুল আলম।

জেলা প্রশাসক বলেন, তাজগীরের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে অবগত করেছে। ছেলেটি অদম্য মেধাবী । তারপর ইউএনওকে বলেছি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়ে আসতে। প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এ টাকা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হবে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দরিদ্র তহবিলে দরখাস্ত করা হলে তাকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।

খুলনা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে চান্স পাওয়া তাজগীর হোসেন বলেন, ভর্তি নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত ছিলাম । ভেবেছি স্বপ্ন যাত্রা এখানে থেমে যাবে । আমাকে আর্থিক সহযোগীতা ও মানসিক ভাবে সাপোর্ট দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। জেলা প্রশাসক মহোদয় অনেক আন্তরিক । ওনি বলেছে খুলনা প্রশাসনকেও বলে দিবে আমাকে সার্বিক সহযোগীতা করার জন্য । আমি ডাক্তার হয়ে গ্রামের অসহায় মানুষদের সেবা করার ইচ্ছা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, যখন আমি নবম শ্রেনীতে পড়ি আমার মা মারা যান । মায়ের স্বপ্ন ছিল আমাকে চিকিৎসক বানাবেন। মা বলতেন ভিক্ষা করে হলেও পড়াবেন। এখন মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। মা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। আমরা দুই ভাই নানার বাড়িতে থাকি। অর্থাভাবে ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া বন্ধ। অপর দুই ভাইকে নিয়ে বাবা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কইয়া গ্রামে থাকেন। বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না। নানার বাড়িতে থাকলেও মামাদের আর্থিক অবস্থা করুণ। মামারা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। স্কুল জীবনে বাড়ির পাশে মায়ের দোয়া নার্সারিতে কাজ শুরু করি। চারা রোপণ, পরিচর্যা এবং ভ্যানে করে চারা বিক্রি সবই করেছি। কলেজে ভর্তির পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশনি করেছি। সে অর্থ নিয়ে চালিয়েছি নিজের পড়ালেখার খরচ।

তাজগীর হোসেনের সহপাঠী ও বন্ধু মাসুম অনিক বলেন, বন্ধুর এই সাফল্যে আমি ভীষণ গর্ববোধ করছি। কলেজ জীবনে তার সাথে পুরোটা সময় কাটিয়েছি। নিজের চোখে দেখেছি তার পরিশ্রম ও না হারার দৃঢ় সংকল্প ।

উল্লেখ্য তাজগীর হোসেন লাকসাম উপজেলার বরইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫, জ্যোতিঃপাল মহাথের বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় এ গ্রেড, একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.৯৪ এবং লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ থেকে এইচ এস সিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পান।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: