বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ১০ ইউনিয়ন পরিষদের সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী, ভোটার ও কর্মী-সমর্থকরা। তারা স্থানীয় এমপি ও দলের প্রভাবমুক্ত, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ও পরে মানববন্ধন শেষে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচার কাজে বাধা, মামলা-হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নৌকায় ভোট না দিলে মেরে ফেলা ও এলাকাছাড়া করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এমন অডিও-ভিডিও রেকর্ডও তাদের হাতে রয়েছে বলে তারা জানান। এছাড়া বহিরাগত অস্ত্রধারীদের এনে মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ধমকী প্রদর্শন করা হচ্ছে। লিখিতভাবে অনেক অভিযোগ করার পরও কোন প্রতিকার পাননি বলে তারা অভিযোগ করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্ব স্ব এলাকায় আমরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয়। তৃণমূলে পছন্দের প্রার্থী ও সারাজীবন আওয়ামী লীগ করা পরীক্ষিত নেতৃত্বের হাতে নৌকা না দিয়ে জামাত-বিএনপি থেকে আসা হাইব্রিড ব্যক্তিদের হাতে নৌকা তুলে দেয়া হয়েছে।

তাই ভালোবাসার নৌকাকে বাঁচাতে আমরা বাণিজ্যিক নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। আমরা সবাই নৌকার লোক, তবে মাঝির পক্ষে কেউ নেই। এখানে ভয়মুক্ত সুষ্ঠু ভোট হলে তারা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওই উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মাওলা শিল্পী।

এসময় প্রতিবাদী কর্মসূচিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শুভপুর ইউনিয়নের এএসএম শাহীন মজুমদার, জগন্নাথদীঘির মাহবুবুল হক খান, কনকাপৈতের মো. বেল্লাল হোসেন, চিওড়ার মো. আবু তাহের, বাতিশার ফারুক হোসেন মজুমদার, কনকাপৈতের মো. ইকবাল হোসেন, গুণবতীর মোস্তফা কামাল প্রমুখ। তারা সহিংসতা ও স্থানীয় এমপি মুজিবুল হকের প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপের দাবি জানান। পরে একই দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিলসহ জেলাপ্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি দাখিল করেন।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: