বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন

(সৌরভ মাহমুদ হারুন,বুড়িচং)
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের ময়নামতি সাহেবের বাজার ও আশে পাশে চুরি ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও এলাকার জনমনে আতংক বিরাজ করেছে।গত ২-৩মাসে বেশ কয়েকটি ময়নামতি সাহেবের বাজারে দোকানের শার্টার,টিনের চাল কেটে দুঃসাহসিক চুরি করে মালামাল নগদ টাকা চুরির ঘটনা ও আশে পাশের এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় এলাকার মানুষ অজানা ভয়- ভীতিতে রাত কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি এলাকার কুখ্যাত ডাকাত আব্দুল হালিম পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মারা গেলে ও কিছু দিন চুরি ডাকাতি বন্ধ ছিল।কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে পূনরায় এলাকায় শুরু হয়েছে বিভিন্ন বাসা,বাড়ি ,বাজার ও দোকান পাঠে দুর্ধর্ষ চুরি ,ডাকাতি ।
গত ১১ মে রাতে ময়নামতি ইউনিয়নের সাহেবের বাজারের কাজী অফিসের কাজী মো: অলি উল্লাহ ভূঁইয়া(৫০)এর অফিস কক্ষ বন্ধ করে রাত ৯টায় তালা লাগিয়ে তার নিজ বাড়ি সিন্ধুরিয়া পাড়া গ্রামে চলে যায়।

সকাল ৭টায় অফিসের কাজে এসে দেখতে পান অফিসের দুটি তালা কাটা এবং সার্টার লাগানো অবস্থায় আছে। অফিসের ভিতরে প্রবেশ করে দেখেন তিনটি ষ্টিলের আলমারি ভাংগা এবং সিলিং ও উপরের টিন কাটা রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল সু-কৌশলে রাতে তালা ও টিন কেটে কাজী অফিসে প্রবেশ করে সমস্ত কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে এবং কিছু অংশ ছিড়ে ফেলেছে।

মূল্যবান কাগজপত্র,বালামবই,কেটালক ও সূচীপত্র এবং ষ্টিলের আলমারীতে রক্ষিত মোটা অংকের টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। মোঃ অলি উল্লাহ অলি জানান ময়নামতি সাহেবের বাজারে ৪জন নাইট গার্ড থাকা সত্ত্বে এখানে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় ব্যবসায়ীগন আতংক গ্রস্থ হয়েছে।এঘটনায় গত ১২ মে বুড়িচং থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বাজারের ৪নাইট গার্ডকে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য আটক করে পরে ছেড়ে দেয়।

১৩মে রাতে দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ ময়নামতি বাজার এলাকায় অভিযোন চালিয়ে ২৭পিছ ইয়াবাসহ সমেষপুর গ্রামের ডাকাত মনু মিয়ার ছেলে কুখ্যাত ডাকাত শাহীনকে আটক করে এবং সঙ্গে ১জন ইয়াবা ব্যবসায়ী খলিলকে আটক করে।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান গত কয়েক মাসে এবাজারের ৫-৭টি সার্টার ও টিনের চাল কেটে চুরি ঘটনা ঘটেছে।এমধ্যে কেউ কেউ থানায় অভিযোগ ও সাধারন ডায়েরী করলে ও অনেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।

একাধিক সূত্র আরো জানায় ডাকাত হালিম বন্ধুক যুদ্ধে মারা গেলেও তার সঙ্গীরা এখন এসমস্ত অপর্কম গুলো চালিয়ে যাচ্ছে।তারা আরো জানায় এলাকার ইয়াবা,গাজাঁ,ফেন্সিডিল সেবন কারীরা এবং এলাকার চিহ্নি ছিনতাই কারী চক্র এধরনের কাজ করছে।

এছাড়া গত ২ এপ্রিল ও১০ই ফেব্রুয়ারী একই বাজারের ফেন্ডস লাইব্রেরী এন্ড টেলিকম ব্যবসায়ী মো: সফিকুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখিত তারিখে পর পর ২ বার রাতে দুঃসাহসিক ভাবে টিনের চাল ও সার্টার কেটে দোকানে প্রবেশ করে নগদ টাকা বিভিন্ন মালামাল প্রায় ৩লক্ষাধীক টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

উভয় ঘটনায় পৃথক ২টি অভিযোগ বুড়িচং থানায় দায়ের করা হয।এছাড়াও বেশ কিছু দিন পূর্বে একই বাজারের ব্যবসায়ী ডা. আমিনুল হক শামীমের দোকানে একই কায়দায় নগদ টাকা ঔষধ সহ প্রায় ৪০হাজার টাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।একই রাতে ডা. মামুনুর রশিদের হোমিও দোকানে সংঘবদ্ধ চোরের দল নগদ টাকা সহ ৩০টাকা হাজার চুরি করে নিয়ে যায়।

এছাড়া এবাজারের ব্যবসায়ী মায়ের দোয়া দোকানে মালিক মো: খোরশেদ আলমের মুদি দোকানে রাতের আধারে একই কায়দায় চোরেরা দোকানে প্রবেশ করে নগদ ৫০হাজার টাকা ও মালামাল সহ প্রায়৭০- ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় এবং একই রাতে বাজারের ব্যবসায়ী প্রদীপ দেবনাথের মালামালের গোডাউন কেটে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন যে শুধু ময়নামতি বাজার নয় আশে পাশের গ্রাম গুলোতেও চুরি ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে।এসমস্ত চোর ডাকাত কারা তা পুলিশ ও এলাকার রাজনৈতিক বিদরা জানেন ।ওই সমস্ত চিহ্নিত চোর ডাকাতদেরকে পুলিশ আটক করলে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্থি ফিরে আসত।

এব্যাপারে বুড়িচং থানাধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সেপেক্টর মো: ইউসুফ ফসিউজ্জামান বলেন চুরির এবিষয় গুলো আমরা শুনেছি ।এব্যাপারে অলি উল্লাহ অলি অভিযোগ দায়ের করেছেন অন্য কেউ কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।গত রাতে আমরা ২জনকে আটক করেছি।আমাদের পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।এলাকার অভিযুক্ত চোর ডাকাতদেরকে আমরা গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করব।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: