শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৮:০০ অপরাহ্ন

(মাহফুজ বাবু, কুমিল্লা)
কুমিল্লার সর্ববৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার বুড়িচংয়ের নিমসারে মা হার্ডওয়্যার দোকানে চুরির ঘটনায় বিচার শালিসের টাকা আত্মসাৎ কে কেন্দ্র করে আওয়ামী যুবলীগের (মোবারক মেম্বার – রফিক মেম্বার) দুপক্ষের সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে । মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নিমসার বাজারের যুবলীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসম ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় মহাসড়কে গাড়ী চাপায় শরিফ নামের একজন গুরুতর আহত সহ উভয় পক্ষের ৫জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে ।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রোজার ১৫দিন আগে ফাকা পেয়ে ‘মা হার্ডওয়ার’ দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩হাজার টাকা চুরি করে ফাহাদ নামের পার্শ্ববর্তী দোকান কর্মচারী। বিষয়টি জানতে পেরে যুবলীগ নেতা আমির হোসেন দোকান মালিক কে জানয়। এ বিষয়ে গত ১৫ই রমজানে আমির হোসেন, অহিদ মিয়া ও দোকান মালিক সফিউল্লাহ সহ স্থানীদের উপস্থিতিতে বিচার শালিস হয়। চুরির ঘটনায় জড়িত ফাহাদ কে ৩০০০ টাকা জরিমান করা হয়। পরবর্তীতে ফাহাদ জরিমানার টাকা আমির হোসেন এর কাছে প্রদান করলেও তা দোকান মালিক কে ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি।

বিষয়টি মোকাম ইউ পি মেম্বার ও যুবলীগ সেক্রেটারি মোবারক হোসেনকে জানালে রফিক মেম্বারের ভাই ও মোবারক মেম্বারের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। খবর পেয়ে রফিক মেম্বার ও তার দলবল সহ যুবলীগ কার্যালয়ের সামনে আসেন। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মাঝে লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্র সহ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ধাওয়া খেয়ে মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয় রফিক মেম্বার সমর্থক শরিফ নামের এক যুবক। আহত শরিফ মিয়াকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে স্থানীরা। এছাড়াও এসময় উভয়পক্ষের আরে ৪জন আহত হয়েছে। মোকাম ইউনিয়ন যুবলীগ কার্যালয়ে লুটপাট ও আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয় এসময়। কার্যালয়ের টেবিলের ক্যাশ ভেঙ্গে আড়ৎে বেচাকেনার ৬৫হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অঅভিযোগ করেন মোবারক মেম্বার।

খবর পেয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবু মনোজ কুমার দে, ওসি তদন্ত মেজবাহ সহ দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশের আই সি ইউসুফ ফশিউল্লাহ, এস আই সাহাদাত হোসেন, এস আই মাইনুদ্দিন সহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ এবং থানা পুলিশ কর্মকর্তাগন বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেন। শান্তি শৃঙ্খলার লক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকে বসেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে দুইপক্ষ আবারো উত্তেজিত হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পরে ।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসময় বুড়িচ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬জন কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটকৃতরা হলো মোকাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক মোবারক মেম্বার, যুবলীগ নেতা রফিক মেম্বার, আমির হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা ছানাউল্লাহ এবং মা হার্ডওয়ার দোকানের মালিক শফিউল্লাহ।

এবিষয়ে বুড়িচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবু মনোজ কুমার দে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ সহ বুড়িচং থানা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কোন অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। জনগনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে এবং আইন অমন্যকারী যেই হোক ছাড় দেয়া হবে না। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঘটনাস্থ থেকে জড়িত ৬জন কে আটক করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: