শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন

(আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়,বুড়িচং)

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের পাহাড়পুর সীমান্ত এলাকার লন্ডনীর বাড়ির মালিকের ভাইয়ে লাঠির পিটিয়ে বাড়ির শ্রমিক মো: কাউছার উরফে কালু মিয়ার(৩২) হত্যার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে বুড়িচং থানার পুলিশি তদন্ত অব্যহত রয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়াধীন চলছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের মৃত আবদুল হক লন্ডনীর বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবৎ একই এলাকার (পাহাড়পুর বেলবাড়ির) আনু মিয়ার ছেলে কাউছার উরফে কালু মিয়া শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। লন্ডনীর বাড়ির অনেকেই লন্ডনে থাকাতে কালু মিয়া ওই লন্ডনী বাড়ির গরুর খামার, ফিসারি ও সকল দায়-দায়িত্ব তিনি পালন করতেন এবং বাড়ির চাবিও তার কাছে থাকতো।

লন্ডনী বাড়ির আমজাদ লন্ডনীর ছোট ভাই মো: সুমন (৩২) স্থানীয় এক মসজিদের মোয়াজ্জেম এর মেয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই বউকে মারধরসহ নানান অভিযোগ স্থানীয়দের রয়েছে এবং শ্রমিক কালু মিয়ার কাছে তাদের বাড়ির চাবি,সকল দায় দায়িত্ব ও টাকা পয়সার লেনদেন করতেন লন্ডনী প্রবাসীরা। ঘাতক মো: সুমন তাদের বাড়ির চাবি তাকে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে কালু মিয়াকে চাপ সৃষ্টি এবং মারধর করতেন। কিন্তু লন্ডনী প্রবাসীদের নিষেধ ছিল সুমন মিয়ার কাছে যেনো চাবি হস্তান্তর না করে।

এ নিয়ে কয়েকবার ভাইদের সাথে ঝগড়া বিবেধ হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৭জুলাই বুধবার সকাল ৭ঘটিকার সময় সুমন মিয়া তাদের লন্ডনী বাড়ির আঙ্গিনায় গরুর খামারের ভিতর গেইট সংলগ্নে লাঠি দিয়ে শ্রমিক কালু মিয়াকে মাথায় আঘাত করে এতে প্রচন্ত রক্তক্ষরন হয়। স্থানীয় একাধিক লোকের ধারনা পূর্ব পরিকল্পনা করেই কালু মিয়াকে মারার উদ্দেশ্য করে লাঠির আঘাত করেছিল। পরে স্থানীয়রা ও কালু মিয়ার সহকর্মীরা দেখে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নিয়ে যেতে বলে।

নেওয়ার পথে মৃত্যু বরণ করেন কালু মিয়া। কালু মিয়ার মা, বাবা , স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের মাধ্যমে জানা যায়, কালু মিয়া ছোট বেলা থেকেই লন্ডনীর বাড়িতেই কাজের লোক হিসেবে থাকতেন। দরিদ্র পরিবারটি কালু মিয়া দেখাশোনা করতেন। খবর পেয়ে বুড়িচং থানার তদন্ত ওসি ( মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া), এস আই পুষ্পবরণ চাকমা ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি সুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন।

পরিবার ও এলাকার সু-শীল সমাজের লোকজনেরা সঠিক ও সুষ্টু বিচারের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার ওসি তদন্ত মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া জানান, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি সুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লন্ডনী বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে এসেছি এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন চলছে।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: