শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৭:২১ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক:
নিরীহ গরীবকে মসজিদ থেকে বের করে দিলো কথিত গ্রাম্য মোড়ল! গত প্রহেলা রমজান আদর্শ সদর উপজেলার রাজমঙ্গলপুর পূর্ব পাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, নিরিহ সিএসজি চালক জসিম উদ্দিন খন্দকারকে (৪০) একই এলাকার কথিত গ্রাম্য মোড়ল মাসুক মিয়া (৬০)।

ওই ঘটনায় গত ১৯ মে কোতয়ালী মডেল থানা একটি অভিযোগ দায়ের করে জসিম উদ্দিন। অভিযোগ পত্রে জানা যায় গত দুই ফেব্রয়ারী জসিম উদ্দিনের পরিবারে কিছুটা পারিবারিক মনমালিন্যের সৃষ্টি হয়। তখন এলাকার মোড়ল মাসুক মিয়া এসে জসিমকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। জসিম উদ্দিন বলেন এটি পারিবারিকভাবে সমাধান করবো। কিন্তু এতে মাসুক মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে জনসম্মুখে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে জসিমকে আহত করে । কিন্তু এতেও মোড়ল মাসুক মিয়া ক্ষান্ত হয় নাই।

পরবর্তীতে  কয়েকজনকে নিয়ে একটি মেল বসিয়ে জসিমকে কথিত সমাজ বিতাড়িত ঘোষনা দেয়। সিদ্ধান্ত দেয় কেউ যাতে জসিমের সাথে কথা না বলে, কোন দোকানদার যেন পণ্য বিক্রয় না করে ও কোন ভিক্ষারী যাতে তার বাড়িতে না যায়। এমনকি কোন শ্রমিক যাতে তার বাড়িতে কাজ করতে না পারে। সর্বপরি জসিমের পরিবারকে গ্রাম্য ভাষা এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। সর্বশেষ গত প্রহেলা রমজান জসিম উদ্দিন তারাবির নামাজ পড়তে গেলে অভিযুক্ত মোড়ল জসিমকে মসজিদ ভর্তি মুসল্লীর সামনে থেকে বের করে দেয়। ওই ঘটনায় জসিম উদ্দিন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে।

সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনায় এলাকার মোড়ল হিসেবে সম্মান করে আহত জসিম উদ্দিন কারো কাছে কোন অভিযোগ করেন নি। নির্যাতিন জসিম উদ্দিন নিরবে সব কিছু সহ্য করেছেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ওই ঘটনায় ব্যপারে অভিযুক্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও এলাকার মোড়ল মাসুক মিয়া বলেন, সামাজিকভাবে আমরা তাকে সমাজ থেকে বহিঃষ্কার করেছি। আমরা এভাবেই সমাজ চালাই। সে আবার ফিরে আসতে চাইলে আমরা তাকে সমাজে উঠাব ।

এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন মাওলার সাথে কথা বলেন জানা যায়, কোন মানুষকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া কোন বিধান ইসলামে নেই। মসজিদ আল্লাহর ঘর। আল্লাহর ঘর থেকে কাউকে বের করা যায় না। তারা আরো বলেন, কোন অপরাধী যখন অপরাধ করে তখন তাকে আইনে হাতে তুলে দেওয়া শ্রেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাই আদর্শ সদর উপজেলা চেয়াম্যান এড. আমিনুল ইসলাম টুটুলের কাছে। তিনি বলেন, কাউকে সামাজিকভাবে বয়কট বা এক ঘরে করে রাখার কোন আইন বাংলাদেশে নাই। তার বিরুদ্ধে কেউ যদি বেআইনি ভাবে এরকম ব্যবস্থা নেয়। সেক্ষেত্রে নির্যাতিত ব্যক্তি অবশ্যই আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, বহুকাল ধরে আমাদের দেশে সামাজিক বিচার ব্যবস্থা চলে আসছে। কিন্তু কেউ যদি সামাজিক বিচারের নামে কারো উপর অন্যায় করে তারও প্রতিবাদে ব্যবস্থা রয়েছে।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: