রবিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:২৭ পূর্বাহ্ন

(আবু সুফিয়ান রাসেল, কুমিল্লা)

কুমিল্লা নগরীর কুচাইতলী-বাখরাবাদ সড়ক সংলগ্ন হিজবুল্লাহ দরবার শরিফের অালোচিত মাহবুব কবিরাজ এখন রোগীদের পরামর্শ ও ভক্তদের তালিম এখন অনলাইনে পরিচালনা করেন বলে জানা গেছে।যখন কোন রোগী বারপাড়া অাস্তানায় যায় কবিরাজের লোকজন ইমুতে অডিও ভয়েজ রেকর্ড করে কবিরাজের নিকট পাঠায়, কবিরাজ অাবার অডিও রেকর্ড সমাধান বলে দেন।

গত ৩১ মার্চ চিকিৎসার নামে ৩ বছরের শেখ ফরিদ নামের এক শিশুকে নির্মম ভাবে হত্যা করার কবিরাজ অভিযোগ রয়েছে এ কবিরাজের বিরুদ্ধে।শেখ ফরিদ বাড়ি বুড়িচং উপজেলার সিন্দুরিয়া পাড়া গ্রামের প্রবাসী শেখ জামাল হোসেন ও রোজিনা আক্তারের একমাত্র পুত্র সন্তান।

এ ঘটনার পর নিহত শিশুর মা রোজিনা আক্তার কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন, এখনো আত্নগোপনে অাছে কবিরাজ মাহবুব। তবে পালিয়ে থেকেও তার কর্মকান্ড বন্ধ নেই।

বিশেষ সূত্র মতে, কবিরাজ মাহবুব এখন ভারতে অবস্থান করছেন। অন্য এক সূত্র জানায়, দেশেই এক মুরিদের বাড়িতে রয়েছেন তিনি। সেখান থেকে সব তদবির পরিচালনা করছেন। নিকট আত্মীয় ও ভক্তদের সাথে যাতায়াত-যোগাযোগ নিয়মিত হয়। তার কর্মচারিরা মামলার ভয়ে বারপাড়া আস্তানা থেকে চলে গেছে। চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরে নিয়ন্ত্রিণ আস্তানায় এখন কবিরাজের স্ত্রী, মা, বোন ও দুই ভাগিনা বসবাস করছে।

এ ধরনের কর্মকান্ডের জন্য ২০১১ সালে কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট ভাড়া বাসা থেকে বিতারিত হওয়ার পর বারপাড়া গিয়ে অাস্তানা খুলে মাহবুব। সেখানে জমি ক্রয় করে সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পাঁচ তলা বিশিষ্ট দু’টি ভবন তৈরি করে। সচেতন নাগরিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে গত ৮ এপ্রিল কবিরাজকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বারপাড়া এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কবিরাজের এক রোগী জানান, কবিরাজের বড় ভাগিনা মো. নেছার উদ্দিন বারপাড়া বাড়ি থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে, এই নম্বরে 0187485****। ঔষধ লাগলে গিয়ে নিয়ে আসি। হাদিয়া হাতে হাতে বা বিকাশে দিতে হয়।

বারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রায়হান খান বলেন, বাড়ির গরু বাড়ির ঘাস খায় না।আমরা এ কবিরাজের কাছে কখনো যাই না। ডানে কুচাইতলী মেডিক্যাল বামে ময়নামতি মেডিক্যাল প্রয়োজন হলে এমবিবিএস ডাক্তারের কাছে চলে যাই।

রোগী পরিচয়ে কথা বললে কবিরাজেরর ভাগিনা নেছার উদ্দিন মোবাইলে জানান, মামা অসুস্থ দরবারে নেই। ইদের পর আসতে পারে। ভিজেডিং কার্ডে দেওয়া নম্বরে কল দিয়ে আসবেন। জরুরি কিছু দরকার হলে আমাকে বলেন, আমি হুজুরের আপন ভাগিনা। এতদিন যে কবিরাজ পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া রোগের নাম বলে দিতে পারতেন, দেশি-বিদেশী ডাক্তার যেখানে ব্যর্থ হয়ে যায়, সেখান থেকে যার যাত্রা শুরু হয়, আজ তিনি নিজেই অসুস্থ। রোগীর সেবা দিতে পারছেন না।

নিহত শিশু শেখ ফরিদের মা বলেন, মামলা করেছি এক মাস হয়ে গেছে, তাকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আমাদের মতো যেন আর কোন মা-বাবার কোল খালি না হয়। অবিলম্বে ভন্ড কবিরাজ মাহবুবকে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন জানান, ইতোমধ্যে তার বাড়িতে কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: