শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১২:১৫ অপরাহ্ন

(বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, কুমিল্লা )
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের মেরকট বাজারের ফল ব্যবসায়ী জহিরের দোকান থেকে ১টি আপেল খাওয়ার অপরাধে হত্যা করা হয় মো. ইদ্রিছ মিয়া (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে। হত্যার পর লাশ বাড়ীর পাশের ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইদ্রিছ মিয়া ওই গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি বিপতœীক ও ৮ সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীরা জানায়, বুধবার মধ্যরাতে ক্ষুধার্থ ইদ্রিস মিয়া পাশের মেরকট বাজারে গিয়ে জহিরের ফল দোকানের সামনে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় আপেলের টুকরি থেকে ১টি আপেল নিয়ে খাওয়ার সময় দোকানী জহির ঘুম থেকে উঠে তাকে মারধর করে এবং বাড়ীতে তার ভাই জসিমের কাছে ফোন করে। পরে জহিরের ভাই জসিম, নিজাম, রুবেল, রশিদ ও পিতা আবদুল মান্নান বাড়ী থেকে বাজারে এসে ইদ্রিস মিয়াকে বেদড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘাতকরা তার মরদেহ কাঁধে করে নিয়ে বাড়ীর পাশের ডোবায় পেলে দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় বাড়ীর পাশের ডোবায় ইদ্রিছ মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা লাশ উদ্ধার করে বাড়ীতে রাখে এবং বাদ মাগরিব জানাযা শেষে দাফন করা হয়।
সরেজমিনে গেলে একই গ্রামের মৃত সুজ্জত আলীর ছেলে ও নিহত ইদ্রিসের শ্যালক মোবারক উল্লাহ বলেন, সকালে ইদ্রিসের লাশ বাড়ীর পাশের ডোবায় পড়ে থাকতে দেখে আমাকে খবর দেয়া হলে আমিসহ বাড়ীর লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করি এবং দাফনের ব্যবস্থা করি। তবে তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে দাবী করেন তিনি। এসময় মরদেহের ছবি তুলতে এবং নিহতের ছেলে মেয়েদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সহ বেশ কয়েকজন মিলে সাংবাদিকদের বাধার সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া হয়।
ঘটনার সময় ওই বাজারে তাস খেলতে থাকা স্থানীয় ৪ ব্যক্তি ও বাজারে থাকা ২ দোকান কর্মচারী এবং ওই গ্রামের অন্তত ১০ জন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানায়, বুধবার রাত আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার সময় নিহত ইদ্রিসকে পাশের বাড়ীর আবদুল মান্নান মনু তার ছেলে জসিম উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা মিলে মারতে দেখেছি। এরপর সকালে আমরা জানতে পারি নিহত ইদ্রিসের লাশ ডোবায় পাওয়া গেছে। তারা আরো জানান, সকালে লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি জানাজানি হলে নিহত ইদ্রিসের শ্যালক মোবারক উল্লাহর ঘরে তার উপস্থিতিতে সাবেক মেম্বার আব্দুল বাতেন ও কয়েকজন প্রতিবেশী মিলে স্থানীয়ভাবে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে আবদুল মান্নান মনুর সাথে রপাদফা করা হয়। এসময় মনু মিয়া নগদ ১ লক্ষ টাকা মোবারক উল্লাহর নিকট বুঝিয়ে দেয়। বাকী ২ লাখ টাকা ১ মাসের মধ্যে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জসীম উদ্দিন ও তাঁর পিতা আবদুল মান্নানকে তাদের বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং জসীম উদ্দিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, এখনো থানায় কোন অভিযোগ আসেনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: