রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর এখন কারাগারে। বিষয়টি নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে শোবিজ অঙ্গনে। যেহেতু মামলার বাদী-বিবাদী উভয়ই একই অঙ্গনের মানুষ। তাই সমাঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিস্পত্তির পক্ষে মতামত দিয়েছেন অনেকে। তাছাড়া আসিফ শারীরীকভাবেও সুস্থ নন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এই অবস্থায় আসিফ কি সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান করতে চান কিনা জানতে চাওয়া হলে আসিফের স্ত্রী কোন কথা বলতে রাজি হননি।

তবে তার পরিবারের একজন জানিয়েছন, আসিফের সাথে ৭ জুন দেখা হয়েছিল তাদের। আসিফ সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আপোস-মীমাংসার কথা বললে আসিফ বলেছেন, ‘কোনো ধরনের মাথানত করব না। কারণ আমি কোনো অপরাধ করিনি।’ আর এ কথা আদালতে বিচারকের সামনেও বলেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, আসিফ আকবরের জামিনে মুক্তি জটিল হচ্ছে। মামলার পুরো প্রক্রিয়া দেখে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আইনজীবী এমনটাই ধারণা করছেন। মামলাটিতে তৃতীয় পক্ষের ‘কালোছায়া’ পড়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। তেমনটা হলে ঈদের আগে জামিনের সম্ভাবনা নেই বলে মেনে নিচ্ছেন ঘণিষ্ঠজনরা। তবে ‘কালোছায়া’ কে বা কারা এ নিয়ে কিছু না বললেও শিগগিরই সেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন।

আসিফ ইস্যুতে সর্বশেষ মুখ খুলেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতপরিচালক শওকত আলী ইমন। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন-

‘আমরা যদিও বুঝি, সবাই ব্যাপারটাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন তবুও সবার কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি দয়া করে ওসব থেকে বিরত থাকুন। এতে সবার মাঝে অনেক অনেক কনফিউশন সৃষ্টি হচ্ছে। আসিফ এ দেশের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রচন্ড জনপ্রিয় একজন কন্ঠশিল্পী। আমাদের গর্ব। আপনারা অনেকেই যেমনটা ভাবছেন যে সিনিয়ররা হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে আছেন, সেটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। নাম উল্লেখ করতে চাইছিনা, আমরা ক’জন সিনিয়র এবং আসিফের খুব ঘনিষ্ট কয়েকজন প্রতিটি মুহুর্তে এটি মনিটর করছি। কারো কাছে মাথানত করে নয়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আসিফকে স্ব-সন্মানে ঘরে ফিরিয়ে আনবো, এটাই আমাদের ব্রত। আপনারা সবাই মন থেকে একটু দোয়া করবেন আপনাদের প্রিয় আসিফের জন্য।

তিনি নিরপেক্ষতার প্রতি দৃষ্টি রেখে বলেন, কে দোষ করেছে কিংবা না করেছে, সেই ব্যাপারগুলো এখন আলোচনার ঊর্ধ্বে। আসিফকে ঘরে ফিরাবোই আমরা যত শিগগিরিই সম্ভব ইনশাআল্লাহ্- যোগ করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন।

ইমনের সমঝোতার উদ্যোগের সঙ্গে বরেণ্য শিল্পী লিনু বিল্লাহ, কনকচাঁপা, কবীর বকুল, রুমানা ইসলাম, দিনাত জাহান মুন্নী, আঁখি আলমগীর প্রমুখ শিল্পীরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর তেজগাঁও থানায় শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল মগবাজারে অবস্থিত অফিস থেকে আসিফকে গ্রেপ্তার করে।পরদিন বুধবার তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রলয় রায়। ঘটনার বৃত্তান্ত জানতে আসিফকে পাঁচ দিন হেফাজতে (রিমান্ডে) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন দাখিল করেন প্রলয় রায়। বেলা ২টার দিকে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর এজলাসে শুনানি শেষে রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

আসিফের বিরুদ্ধে করা মামলায় শফিক তুহিন উল্লেখ করেছেন, গত ১ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসিফ আকবর তার অনুমতি ছাড়াই তার সংগীতকর্মসহ অন্যান্য গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীদের ৬১৭টি গান সবার অজান্তে বিক্রি করে অসাধুভাবে ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।

এরপর শফিক তুহিন গত ২ জুন রাত ২টা ২২ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমোদন ছাড়া গান বিক্রির এই ঘটনা উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। তার ওই পোস্টের নিচে আসিফ আকবর নিজের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেন।

পরের লাইভ ভিডিওতে আসিফ অবমাননাকর, অশালীন বক্তব্য দেন। এ ছাড়া শফিক তুহিনকে শায়েস্তা করবেন বলে হুমকি দেন। এতে শফিক তুহিনের মানহানি হয়েছে।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: