মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন

( জাগো কুমিল্লা.কম)
কুমিল্লা কান্দিরপাড় লিবার্টি চত্ত্বরে বিএনপির দুই গ্রুপের ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে রণক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় পথচারীদের উপর ককটেল বিস্ফেরণ করা হয়। এতে কলেজ রোড এলাকায় আতঙ্কে ছোটাছুটি করে সাধারণ জনগণ। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২১ রাউন্ড গুলি বিনিময় করে।

রবিবর দুপুর সাড়ে ১২ টায় বিএনপি কার্যলয়ের সামনে সাক্কু -ইয়াছিন গ্রুপের ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটাস্থলে পুলিশের একাধিক টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে সাধারণ জনগণসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  নবগঠিত ছাত্রদলের কমিটিকে স্বাগত জানানো জন্য বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হয় ইয়াছিন গ্রুপের নেতা-কর্মীরা । এ সময় সাক্কু গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে  অনবরত ককটেল ও গোলাগুলি শুরু হয়।

জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সার জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিন বারের প্রধাণমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নেত্রীর কারামুক্তির দাবিতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল মিছিল বের করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসলে তারা (কুসিক মেয়র গ্রুপ) গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ করে। দলের নেত্রী , দেশমাতা যখন কারাগারে তখন আমাদের সবাইকে একত্র থাকা উচিত ছিল ।

 

কেন্দ্রীয় কর্মসূচী একত্রে পালন করা উচিত ছিল। কিন্তু তারা এটা না করে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে। তারা বিএনপির কেউ না, বিএনপির লোক হতে পারে না। দলের ক্রান্তিলগ্নে যারা হামলা করতে পারে তারা আ’লীগেরই অংশ। তারা কোন বিএনপির কোন অংশ নয়। সারাদেশে যেখানে বিএনপির কোন লোক প্রশাসনের কারণে ভালভাবে কোন কর্মসূচী করতে পারে না, সেখানে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করা তাও আবার প্রশাসনের সহযোগিতায় । বুঝতেই পারছেন তারা বিএনপি না আ’লীগ করে। তিনি আরো বলেন, যাদেরকে নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি করা হয়েছে তারা সবাই মেধাবি ও যোগ্যতা সম্পন্ন।

মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পদবঞ্চিতরা মনের ক্ষোভে গতকাল (শনিবার) বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়েছিল। আজ ছাত্রদলের ব্যানারে অযোগ্য নেতৃবৃন্দরা মিছিল বের করে তালা ভাঙ্গতে আসে। তখন তাদের প্রতিরোধ করা হয়েছে। অযোগ্য নেতৃবৃন্দকে কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হবে না।

হামলাকারিরা বিএনপির নেতাকর্মী হতে পারে না -নিজাম উদ্দিন কায়সারের এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সব পদ যেহেতু তারাই পেয়েছে তারাই বিএনপি করে , আর আমরা কিছু না। দলের এ ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রদলের ব্যানারে কর্মসূচীটা আর কয়েকদিন পরে দিলে কি হতো ? পদবঞ্চিতরা এখন মনের ক্ষোভে আছে । তারা একটু শান্ত হলেই এ কর্মসূচীটা দিতে পারতো। কায়সারের মনে রাখা উচিত পদবঞ্চিতদের কাছে এখন দল আর গুরুত্বপূর্ণ না। দল কিংবা কর্মসূচী এখানে কোন বড় বিষয় না। অযোগ্য ও আতœীয়দের নিয়ে ছাত্রদলের কমিটি করা হয়েছে। তাই অযোগ্যদের কোন কর্মসূচী পালন করতে দেয়া হবে না। অযোগ্যদের পাশাপাশি কুমিল্লায় নিজাম উদ্দিন কায়সারকেও প্রতিরোধ করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ হোসেন জানান, ছাত্রদলের কমিটির নিয়ে দুই পক্ষের অসন্তোসকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন:

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: