শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:১৮ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটে বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবার। ফেনীর ফতেপুর রেলগেট থেকে সৃষ্ট যানজটে একদিকে মীরসরাই উপজেলার বড়দারোগারহাট পর্যন্ত; অপর দিকে কুমিল্লা পর্যন্ত দিন শেষে রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যানজট লেগে ছিল। দুই দিকে ১২০ কিলোমিটার জুড়ে ২২ ঘণ্টা ধরে যানজট চলছিল  বৃহস্পতিবার। এরপরও আরো অন্তত ২২ ঘণ্টায় এই যানজট নিরসন হবে কিনা সন্দেহ আছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেক প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী।

সরেজমিনে, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের থেকে জানা যায়, যানজটে অনেক মহিলা ও শিশু পথিমধ্যে খাবার ও স্যানিটেশন সংকটে অসুস্থ হয়ে গেছে।

হাইওয়ে পুলিশের জোরারগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল সরকার জানান, ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণের স্থলে বিকল হয়ে যাওয়া ট্রাক অপসারণে বিলম্ব হওয়ায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যা এই পর্যন্ত লেগেই আছে। তবে দিনভর হাইওয়ে ও থানা পুলিশ সকলে আপ্রাণ চেষ্টা করে মহাসড়ক সচল রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এতো বেশী যানবাহন ও মালবাহী গাড়ি যে জন্য যানজট আর ছোট করা সম্ভব হয়নি। মহাসড়কে দুর্ভোগে নাকাল হয়ে পড়েছে দূরপাল্লার ট্রাক, লরিসহ বাসের যাত্রীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাঝে মাঝে থেমে থেমে বৃষ্টি ও ফেনীর ফতেহপুর রেল ওভারপাস নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে এ যানজট লাগে মূলত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাত্রী নাছির উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা চট্টগ্রাম শহর থেকে বাসে উঠে সকাল সাড়ে ৭টায় বড়দারোগার এলাকায় আসার পর যানজটে পড়েন এবং মীরসরাইয়ে আসার পর যানজট আরো তীব্র আকার ধারণ করে। দিনভর এই যানজটেই পড়ে আছেন এমন অসংখ্য যাত্রী। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা তো ফেনী পারও হতে পারেনি আর এগুতেও পারেনি।

দিনভর রোদ বৃষ্টির ভ্যাপসা গরমে সকলের জীবন যেন ওষ্ঠাগত। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের চালক আনোয়ার হোসেন জানান, ভোর রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হয়ে নিজামপুর আসলে যানজটে পড়েন। এ যানজট কাটিয়ে বারইয়ারহাট পর্যন্ত আসতে ১৫ মিনিটের সময়ের স্থলে লেগেছে ৪ ঘণ্টা। ঢাকা পৌছুতে কয়দিন লাগে তা তিনি অনিশ্চিত বলে জানান।

এ বিষয়ে মীরসরাই থানার ওসি সাইরুল বলেন, অপ্রত্যাশিত এই যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সাথে জোরারগঞ্জ ও মীরসরাই থানার সকল পুলিশ সদস্য দিনভর এবং অদ্যাবধি প্রতিটি ইউটার্ণে অবস্থান নিয়ে যানজট নিরসনে কাজ করছেন। বিক্ষিপ্ত সকল গাড়িকে শৃংখলায় রেখে আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে মহাসড়ক সচল করতে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আশা করছি রাতের মধ্যেই পুরো মহাসড়ক সচল চয়ে যাবে। তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণেও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে সৃষ্ট এই যানজটে ঢাকামুখী দূরপাল্লার অনেক বাসই দিনের বেলা যাত্রা বাতিল করায় অধিকাংশ মানুষ রেলে ঢাকা যাত্রা করেছে। আবার অনেকে বিমানে গন্তব্যে পৌঁছেছে। কিন্তু যারা সাধারণ মানুষ ও যাঁরা যাত্রা পথে বেরিয়ে গেছেন তাদের পতিত হতে হয় বেগতিক দুরবস্থায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ– ফেনীর এই ফতেপুর রেললাইনের উপর ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের জন্য সড়ক অংশে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার জন্যই মূলত প্রতিদিনই এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। তবে এবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে গত কয়েক বছরের। ওই স্থানে সড়ককে অস্থায়ীভাবে আরো প্রশস্ত করে দেয়া হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: