বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রদের একমাত্র আবাসিক হলে প্রবেশ করে হামলা করেছে স্থানীয় দূর্বিত্তরা। এতে আহত হয়েছে হলের অন্তত ১০জন শিক্ষার্থী। পরে ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদসহ পুলিশের একটি টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১০টার পর কলেজের ধর্মপুরের ডিগ্রি শাখার কবি নজরুল হলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে হলের আবাসিক ছাত্রদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করায় অনেকেই হলের বাইরে অবস্থান করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী জানান, রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছিল। এসময় আচমকা হলে ঢুকে পড়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। বহিরাগত হওয়ার পরেও কেউই তাদের কিচ্ছু বলেনি। আমরা ভেবেছিলাম খেলা দেখে তারা চলে যাবে। খেলার শেষ দিকে আসলে সবাই আনন্দে হৈ-হুল্লোড় করছিল। এমন অবস্থায় লাইট বন্ধ ও জ্বালানো নিয়ে হলের কয়েকজনের সাথে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আমরা সবাই তাদের বের হয়ে যেতে বললে তারা বের হয়ে যায়। আমরা তখন খেলা দেখছিলাম। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় যুবকদের একটি দল এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। আমরা দিগবিদিক ছুটতে থাকি। একপর্যায়ে তারা হলের গেটে ঢুকে আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের কয়েকজন সহপাঠী আহত হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই শিক্ষার্থীরা জানান, হলে এখন খুবই কম শিক্ষার্থী আছে। আমরাও বাইরে আছি। তারা হুমকি দিয়েছে আবার তারা হামলা চালাবে।

এবিষয়ে নজরুল হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ঘটনাটা মূলত লাইট বন্ধ বা জ্বালানো নিয়ে। শুনেছি স্থানীয় কয়েকজন যুবক হলের ভেতরে ঢুকে কথা-কাটাকাটি করে। পরে তাদের বের হয়ে যেতে বললে তারা বাইরে গিয়ে স্থানীয়দের একটি গ্রুপ এনে মারামারিতে লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। কোন বহিরাগত এভাবে হলে প্রবেশ করতে পারেনা। আর হামলাতো মোটেই না। ঘটনাস্থলে রাতেই পুলিশ এসেছে। বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যার জানেন।

এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খান বলেন, আমি রাতে ঘটনা শোনার পরেই পুলিশকে কল দিয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ছেলেদের হল থেকে বের করেছে। বহিরাগত যারাই হলে প্রবেশ করেছে এটা অনিয়ম করেছে। আমরা দেখছি কি করা যায়।

এবিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ বলেন, ঘটনার পর খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গেছি। গিয়ে স্থানীয় ছেলেদের হল থেকে বের করেছি। এ ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: