শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক:
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি ছিল আজ। যার ফলে সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ছিল দেখার মত। আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার সময় এক এক করে সবাইকে তল্লাশি করা হয়। তবে বাইরের পরিবেশ ঠাণ্ডা থাকলেও ভেতরের পরিবেশ ছিল অশান্ত।

মঙ্গলবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আপিল শুনানি শুরু হয়। কিন্তু আইনজীবীদের ব্যাপক হট্টগোলের মাঝে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবী ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রথমে আদালতে বক্তব্য রাখেন দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। তিনি খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল চেয়েছেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যে দুইবার আদালতে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রতিবাদ করে উঠেন। অ্যাটর্নি জেনারেল তার বক্তব্যে বলেন, ‘খালেদা জিয়া রেস্টে আছেন’ এবং ‘এটি সবচেয়ে ফেয়ার ট্রায়াল’।

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখতে শুরু করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। তিনি আদালতকে বলেন, দুদকের আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেল যেসব বক্তব্য রেখেছেন তা রাজনৈতিক। রাষ্ট্রের আইন প্রধান আইন কর্মকর্তা হয়ে তিনি এসব বক্তব্য রাখতে পারেন না। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেকে এ মামলার বাদি উল্লেখ করে বলেন তিনি এসব বলতে পারেন। এ নিয়ে অন্য আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করলে আদালত আজকের মতো শুনানি স্থগিত করে দেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে আরও উপস্থিত ছিলেন- ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ সিনিয়র আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল এবং খালেদা জিয়ার জামিন বহাল চেয়ে তার পক্ষে দায়ের করা অপর একটি আপিল আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজ দিন নির্ধারণ করেছিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

গত ১৯ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসাথে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল (আপিলের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন) গ্রহণ করা হয়।

আদেশের পর ওই দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনুরোধে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ৮ মে এই মামলা শুনানির জন্য তালিকার শীর্ষে থাকবে। কোনো ধরনের মুলতবি ছাড়া বিরতিহীনভাবে শুনানি হবে। ৮ মে না হলেও ৯ মের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করব।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। একই রায়ে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অপর চার আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এরপর গত ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করা হলে ১২ মার্চ চারটি যুক্তি আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। জামিন আদেশে আদালত বলেন, আদেশ দেয়ার সময় আমরা যেসব বিষয় বিবেচনা করেছি সেগুলো হলো- এক. সাজার পরিমাণ (বিচারিক আদালতে তাকে যে স্বল্প মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে); দুই, মামলাটির বিচারিক আদালতের নথি এসেছে এবং এটি আপিল শুনানির জন্য পেপার বুক তৈরি হয়নি; তিন. বিচারিক আদালতে মামলা চলাকালে তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, তিনি জামিনে ছিলেন ও জামিনের অপব্যবহার করেননি এবং চার. তার বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করা হলো।

আদালত আরও বলেন, তিনি ৭৩ বছর বয়সী একজন নারী এবং দীর্ঘ দিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত। এসব বিবেচনা করে তাকে চার মাসের জামিন দেয়া হলো।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: