শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৩২ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক:
স্বর্ণের কালি দিয়ে পুরো কুরআন হাতে লিখলেন ইরানি নারী ক্যালিগ্রাফার মরিয়ম কাজেমি সাভাদকুহি। ক্যালিগ্রাফের নখশি লিপীতে তিনি পবিত্র কুরআনের একটি পাণ্ডুলিপি লিপিবদ্ধের কাজ সম্পন্ন করেছেন। বিশ্বাস করা হয়, মরিয়ম মু’সলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী ক্যা’লিগ্রাফার, যিনি পুরো কুরআন হাতে লিখেছেন।

ফারসি সংবাদ মাধ্যম হোনারঅনলাইনকে তিনি বলেন, ‘আমি পবিত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপিটি সম্পন্ন করতে প্রায় একছর যাবত দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করেছি। পুরো কাজ আমি নিজেই করেছি। তবে বাঁ’ধাইয়ের কাজ করেছেন আলি বেহদানি।’

শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০ সেন্টিমিটার প্রস্থ ও ৭০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যর পা’ণ্ডলিপিটির প্রতিটি পৃষ্ঠা জাফরান দিয়ে রাঙানো হয়েছে। বইটি বাঁ’ধাইয়ে অ’ত্যন্ত মূল্যবান কাভার ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি তৈরি করা হয়েছে ইরানের ঐতিহ্যবাহী ‘গোল-ও-মোরঘ’ চিত্রক’লার ব্যবহারে। এটি ফারসি চিত্রক’লার একটি অনন্য শৈলী যেখানে বিভিন্ন রঙে পাখি ও পুষ্পশোভিত নকশা চিত্রায়িত করা হয়।

কাজেমি জানান, ক্যালিগ্রাফের নখশি লিপী খুবই প্রাচুর্যপূর্ণ একটি লিপী। সে কারণে তিনি এই লিপীটিকে বেছে নেন। কুরআন লিপিবদ্ধে তিনি ১৮শতকের ক্যালিগ্রাফি মাস্টার আহমাদ নেইরিজির ক্যালিগ্রাফি শৈলী ব্যবহার করেছেন। স্বর্ণের প্রলেপের ব্যবহারে প্রতিটি পৃষ্ঠা খোদাই-করা আলোকসজ্জা দিয়ে সুশোভিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার শৈল্পিক পেশায় একটি মূল্যবান ও চিরস্থায়ী শিল্পকর্মের অভাববোধ করছিলাম। আমি ভাবছিলাম আমাকে অবশ্যই এমন কিছু লিপিপদ্ধ করতে হবে যা আমাকে শান্তি ও প্রশান্তি দেবে। তাই কুরআন লিপিবদ্ধ করা আমার জন্য ছিল বিশাল তাৎপর্যের। আমি বিশ্বাস করি, আমার জীবনে এর আধ্যাত্মিক প্রভাব দেখতে পাবো।

কাজেমি ১৯৯০ সালে উত্তর ইরানে অবস্থিত ইরান ক্যালিগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশনের চালাস শাখায় ক্যালিগ্রাফি শেখার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি তেহরানে ক্যালিগ্রাফি অঙ্কনের কাজ অব্যাহত রাখেন। ইরানি এই নারী ক্যালিগ্রাফার বলেন, আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে ক্যালিগ্রাফার হিসেবে কাজ করে আসছি। এপর্যন্ত আমি ক্যালিগ্রাফি এবং ক্যালিগ্রাফিক পেইন্টিংয়ের ও’পর বেশ কয়েকটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: