বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর আদর্শ কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ করেছেন কলেজটির শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা। বিধিবর্হিভূতভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা(মাউশি) অধিদপ্তর কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিসও তদন্ত করেছে। তারাও নিয়ম বর্হিভূতভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে।
কলেজের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২০১৮ সালের ১৪ আগষ্ট তথ্য গোপন করে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন মোঃ আনিসুর রহমান সোহেল। তবে অধ্যক্ষ পদে যোগদানের জন্য যেসব শর্ত পূরণ প্রয়োজন ছিলো তার কিছুই মানা হয়নি। উপেক্ষিত ছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রবিধানমালা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে গোপালনগর আদর্শ কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়ার আগে মোঃ আনিসুর রহমান সোহেলের কলেজে প্রভাষক পদেও কোন নিয়োগ নেই। উড়ে এসেই অধ্যক্ষ পদে জুড়ে বসেছেন। এছাড়াও তার অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য যে ৮/১০ বছরের অভিজ্ঞতা দরকার তাও নেই। শুধুমাত্র সভাপতির মাধ্যমেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, অধ্যক্ষ পদে যোগদানের পরেই কলেজের একাধিক শিক্ষককে বহিস্কার এবং নিয়োগ দিয়েছেন মোঃ আনিসুর রহমান সোহেল। একাধিক শিক্ষককে বহিস্কার করেই ক্ষান্ত হননি, দিয়েছেন মামলাও।
একাধিক শিক্ষক জানান, মোঃ আনিসুর রহমান সোহেলের ভুলের কারণে এমপিও হওয়ার পরেও শিক্ষকদের ইনডেক্স নম্বর আসছে না। এছাড়াও তার অনভিজ্ঞ আচরণের কারণে কলেজটিতে শিক্ষার্থীর পরিমাণ কমে আসছে। এখন কাঙ্খিত শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে।
আনিসুর রহমান মজুমদার সোহেল জানান, তার অধ্যক্ষ পদে আবেদনের কাগজপত্রে ভুল ছিলো। এখন আবারো আবেদন করেছেন। অপেক্ষায় আছেন ফলাফল কি আসে তা দেখার।
এদিকে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য, আজীবন দাতা সদস্য ও কলেজ কমিটির কো-অপ্ট বিদে্যুাৎসাহী সদস্য গোলাম কিবরিয়া পারভেজ জানান, একজন সদস্য হিসেবে আমি জানি না আনিসুর রহমান মজুমদার সোহেলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কি না। তবে আমি বলবো এই আনিসুর রহমান মজুমদার সোহেলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করার পর কলেজে কাঙ্খিত শিক্ষার্থীর পরিমাণ কমেছে। সেই সাথে কলেজের শিক্ষিক-শিক্ষার্থীদের সাথে অনেকবার ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। একজন অধ্যক্ষ হতে হলে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে। মোঃ আনিসুর রহমান মজুমদার সোহেলের কোন অভিজ্ঞতা নেই। এমন লোক দিয়ে আর যাই হোক কলেজ চলতে পারে না। তাকে অবৈধভাবে কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করেছেন কলেজ গর্ভনিংবডির সভাপতি আসাদ উল্লাহ ভূঁইয়া।
বিষয়টি নিয়ে কলেজর সভাপতি আসাদ উল্লাহ ভূঁইয়ার জানান, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। ১২ বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন নিয়োগ বৈধ কি না এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি জানান, এমপিও ছাড়া কোন শিক্ষক ১২ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে এমন কলেজে অধ্যক্ষ পদে আসবেন না। পরিচালনা পর্ষদের অনেকে জানেন না মোঃ আনিসুর রহমান সোহেলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের বিষয়ে কলেজর সভাপতি আসাদ উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, রেজুলেশন বইয়ে সবার স্বাক্ষর রয়েছে।
তবে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির কো-অপ্ট সদস্য গোলাম কিবরিয়া পারভেজ জানান, রেজুলেশনে তার স্বাক্ষরের জায়গাটি খালি রাখা হয়েছে। ওইখানে কোন স্বাক্ষর নেই।
বিষয়টি নিয়ে মাউশির কুমিল্লার অঞ্চলের পরিচালক সৌমেশ কর চৌধুরী জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে মোঃ আনিসুর রহমান সোহেলের নিয়োগটি অবৈধ। কাগজপত্রে জালিয়াতি করেছেন মোঃ আনিসুর রহমান সোহেল। এছাড়াও কলেজ পরিচালনা কমিটির লোকজন জানেন না মোঃ আনিসুর রহমান সোহেলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নিয়োগে জাল স্বাক্ষর রয়েছে। কোন শর্ত মানা হয়নি।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে কোরোনা

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪
%d bloggers like this: