রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

মাহফুজ নান্টু,কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কখনো মাইক হতে ছুটে চলেন জনসমাগম বন্ধে। কখনো বা খাবার নিয়ে হাজির হচ্ছেন কোন অনাহারীর দরজায়। মুখে মাস্ক-হাতে গøাবস আর কাঁধে দায়িত্ব। কুমিল্লা ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া সিদ্দিকা। গত ৩৭ দিন ধরে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে জীবনের ঝুকি নিয়ে এভাবেই দিন রাত ছুটে চলছেন উপজেলার একপ্রান্ত হতে আরেক প্রান্তে।

সরেজমিনে জেলার ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হ্যান্ড মাইকে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান করছেন। যারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে না তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। বাজারে জরুরী পন্যর দোকানগুলো ৯ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

এদিকে গত কয়েক দিনে অনেকেই ঢাকা ও নারায়গঞ্জ থেকে ব্রাহ্মনপাড়ায় এসেছেন। তাদের তালিকা করেন ইউএনও। যার মধ্যে ১৬ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠিয়েছেন। রিপোর্টে উপজেলার টাকই এলাকায় একজন করোনা পজিটিভ হয়েছে। পরে আক্রান্ত লোকের বাড়ীসহ আশপাশের বাড়ী লকডাউন করেন ইউএনও ফৌজিয়া সিদ্দিকা। চলা ফেরায় সবাইকে সর্তক করে দেন।

উপজেলা সূত্রে জানা যায়, ফোনে, এসএমএস ও ই-মেইলে ৮ টি ইউনিয়নের মোট ৩২৯ জনের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া সিদ্দিকার নেতৃত্বে মোট ১৩৯ জনকে ট্যাগ অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অতি দ্রæত বাকীদের মাঝেও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে।

কথা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া সিদ্দিকার সাথে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় আমি কাজ করেন। স্বামী সন্তানকে বাসায় রেখে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে যান। অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। একদিকে দায়িত্ব অন্যদিকে সংসার ও মাতৃত্ব কোন বিষয়টিকে এগিয়ে রাখবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে এই কর্মকর্তা জানান, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমি আমার দায়িত্বটাকে এগিয়ে রাখবো। আমি মনে করি মানুষের সেবার মাঝে রয়েছে ঐশ্ব্যরিক প্রশান্তি।

আরও পড়ুন