শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:০০ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে হাঁস মেরে ফেলার ঘটনা নিয়ে চাচাকে পিটিয়ে দুই দাঁত ভেঙে দিলো ভাতিজা। এখানেই শেষ নয়। এ ঘটনার জের ধরে আরো অন্তত আটবার হামলার শিকার হওয়া চাচা এখন ন্যায় বিচারের আশায় বিভিন্ন জনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
হামলার শিকার ফুল মিয়া দেবিদ্বার উপজেলার উত্তর রাঘবপুর (হাছন আলীর বাড়ির) গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমও আহত হন।
আহত ফুল মিয়া বলেন, আমার পাঁচটি হাস আছে। গত ১০ অক্টোবর আমার পাঁচটি রাজহাস বাড়ির পাশে একটি জমিতে ঘাস খাচ্ছিলো। এ ঘটনায় আমার জেঠাতো ভাই সাম মিয়ার ছেলে ভাতিজা শাহজাহান লাঠি দিয়ে পিটিয়ে একটি রাজহাঁস মেরে ফেলে। এ ঘটনার তিনদিন পর এলাকাবাসী বিষয়টি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংশা করে দেয়। সালিশ বৈঠকে সর্দাররা ভাতিজা শাহজাহানকে ভবিষ্যতের জন্য সর্তক করে দেয়। এতে শাহাজাহানের মনে ক্ষোভ থেকে যায়।
বৈঠকের ৪ দিন পর হঠাৎ করেই তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আমার ছেলের বউ ফাতেমাকে পেটায় ভাতিজা শাহজাহান ও তার ছেলে আরিফ। এ সময় আমি আমার ছেলের বউকে রক্ষা করতে গেলে ভাতিজা শাহ জাহান , তার ছেলে ও ভাই বোনেরা মিলে আমাকে মারতে মারতে তাদের বাড়িতে তুলে দিয়ে যায়।পরে আমার হাত পা বেঁধে লাটি দিয়ে পিটিয়ে আমার দুটি দাঁত ভেঙ্গে দেয়। আমার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত আঘাত করে। এ ঘটনার পর ৮ বার হামলা চালায়। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছি।


ফুল মিয়া বলেন এ ঘটনায় আমি থানায় গিয়েও শাহজাহান, তার ছেলে ও স্বজনদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দিতে পারি নাই। তারা সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। তাই বিভিন্ন মানুষের কাছে ধর্ণা দেই ন্যায় বিচার ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য।
অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান বলেন, আসলে তারা যা বলেছে তার পুরোটা সত্য নয়। তারা আমার একটা হাঁস ধরে রাখে। এ নিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে ফুল মিয়া চাচার ছেলের বাকবিতন্ডা হয়। আমার ভাতিজা আমার স্ত্রীকে চড় মারে। পরে আমি জিজ্ঞেস করতে গেলে তারা আমার ভাইকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তাই আমি আমার চাচাকে বেঁধে পিটাই।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ‘বিষয়টি যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: