বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১০:২১ অপরাহ্ন

days 19 hours 01 minutes 39 seconds 55

অনলাইন ডেস্ক:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সৎ ভাইয়ের যৌ’ন লালসার শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী দুইবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। এ ঘটনায় মুখ খুললে ল’ম্পট ওই সৎ ভাই ওই স্কুলছাত্রীকে প্রা’ণে মে’রে ফেলারও হু’মকি দিচ্ছে বলে জানায় ওই ছাত্রী।

উপজেলার রাজামেহার ইউপির এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে পুরো এলাকায়। ল’ম্পট ওই সৎ ভাইয়ের নাম মেহেদি হাসান। সে রাজামেহার ইউপির গোবিন্দপুর গ্রামের শাহ আলম সরকারের ছোট ছেলে।

১২ বছর আগে শাহ আলম সরকারের প্রথম স্ত্রী পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে মা’রা যান। পরে শাহ আলম সরকার ভানী ইউপির স্বর্ণকার পাড়ার বিধবাকে বিয়ে করেন।

বিয়ের সময় তার ১১ মাস বয়সী একটি মেয়ে সন্তান ছিল। পরে ওই মেয়ে সন্তানসহ নাসিমা বেগমকে ঘরে তুলেন শাহ আলম সরকার। সে থেকে ১১ মাস বয়সী ওই মেয়ে সন্তানকে লালন পালন শুরু করেন শাহ আলম সরকার।

বর্তমানে ওই মেয়ে সন্তান রাজামেহার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। শাহ আলম সরকারের আগের সংসারের পাঁচ মেয়ে বিবাহিতা হওয়ায় মেয়েরা স্বামীর বাড়িতে থাকেন।

আর বড় ছেলে বিল্লাল হোসেন থাকেন তাবলীগ জামায়াতে। বাড়িতে একা থাকতো মেহেদি হাসান। বর্তমানে মেহেদী হাসান রাজামেহার কলেজে এইচএসসির ছাত্র। মেহিদী ও ওই ছাত্রী একই ঘরে ভাইবোন হিসেবে থাকতো। পাশের অন্য ঘরে থাকত শাহ আলম ও স্ত্রী।

ভুক্তভো’গী জানান, ইংরেজি বিষয়ে পারদর্শী হওয়ায় বড় ভাই মেহিদীকে মাঝে মাঝে ইংরেজি বিষয়ে পড়াতেন। এরপর থেকে ল’ম্পট মেহিদী হাসান তার ওপর কু-নজর দেন।

পড়ার ছলে মেহিদী বিভিন্ন সময়ে যৌ’ন নি’র্যাতন চালাতো এবং কু’প্রস্তাব দিতো। প্রস্তাবে রাজি না হলে হ’ত্যার হু’মকি দিতো, আর বলতো বাবাকে হ’ত্যা করে তোর মায়ের ওপর দো’ষ চা’পাবো, হ’ত্যার দা’য়ে তোর মায়ের ফাঁ’সি হবে।

বাবাকে হ’ত্যার ভয়ে কাউকে এ ঘটনা জানায়নি, সব নি’র্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করেছে। এক পর্যায়ে এক রাতে ফাঁকা ঘরে তাকে ধ’র্ষণ করে। এরপর থেকে লাগাতার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জ’ড়াতে বা’ধ্য করে মেহিদী হাসান।

একাধিকবার ধ’র্ষণের পর এক পর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। অন্তঃসত্ত্বার খবর পেয়ে মেহিদী হাসান তাকে সন্তান ন’ষ্ট হওয়ার জন্য বিভিন্ন ওষুধ সেবন করান।

পরে এ ঘটনা সে তার মাকে জানালে মেহেদী হাসান সৎ মায়ের পা ধরে ভু’ল হয়ে গেছে বলে ক্ষ’মা প্রার্থনা করেন, আর তার বাবাকে না বলার জন্য অ’নুরোধ করেন। চাকরি হলে তাকে বিয়ে করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তার মায়ের কাছে।

ওষুধ সেবনে বাচ্চা ন’ষ্ট হয়েছে এমন ধারণা ছিলো মেহিদী হাসানের। কিন্তু এর কয়েকমাস পর গত বছরের ১৮সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার প্রসব বেদনা ওঠে।

ওই রাতে সে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। সস্তান জন্মের পর মেহিদী হাসান বিপাকে পড়েন। পরে ওই রাতেই তার কোল থেকে বাচ্চাটা ছিনিয়ে নিয়ে যায় মেহিদী হাসান। পরে তাকে হ’ত্যা করে বলে জানান ওই ছাত্রী।

ভুক্তভো’গী আরো জানান, ঘটনা এখানেই শেষ নয়, পরে তাকে বিয়ের প্র’লোভন দিয়ে আবারো শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকে মেহিদী হাসান। বর্তমানে সে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর শুনে পালিয়ে গেছেন লম্পট মেহিদী হাসান। পরে মেহিদী হাসান বিভিন্ন ফোন নম্বর দিয়ে কল করে এ ব্যাপারে মুখ খুললে তাকে প্রাণে মে’রে ফেলার হু’মকি দিতে থাকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেহিদী হাসানের বড় বোন বলেন, কে আপনি? আপনি এত কিছু জানেন কিভাবে? সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি লাইন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে মেহিদী হাসানের বাবা শাহ আলম সরকার বলেন, এমন কু’লাঙ্গার ছেলে যেন কারো ঘরে জন্ম না নেয়। সে আমাকেও মে’রে ফেলার হু’মকি দিচ্ছে। আমি আ’ইনের আশ্রয় নেব।

এ ব্যাপারে রাজামেহার ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এমন ন্যা’ক্কারজনক ঘটনা আমার ইউনিয়নে হচ্ছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে ভুক্তভো’গীকে যে কোনো সহায়তা করা হবে।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থা’নার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, ভুক্তভো’গীর পরিবার থেকে কোনো লিখিত অ’ভিযোগ পাইনি। অ’ভিযোগ পেলে ভুক্তভো’গীকে যে কোনো আ’ইনি সহায়তা দেব।

আরও পড়ুন