মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন

days 27 hours 22 minutes 45 seconds 41

অনলাইন ডেস্ক:
বিয়ের দাবিতে টানা ২ দিন প্রেমিকের বাড়িতে আমরণ অনশন করছেন কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রী। এর আগেও এসেছিলেন একদিন। তখন তাকে ইউপি মেম্বারের মাধ্যমে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো বাড়িতে। আশ্বাস পূর্ণ না হওয়ায় ওই ছাত্রী যখন ফের প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে, ঠিক তখনই কৌশলে পরিবার নিয়ে সটকে পড়েন প্রমিক। প্রেমিকার আমরণ অনশনও মন গলাতে পারেনি প্রেমিকের। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নে হাইস্কুল পাড়ায়।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। এই খবর পৌঁছেছে থানায়ও। সর্বশেষ গতকাল ২১ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় পুলিশ ওই প্রেমিকাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে থানায়। পরে রাত ১১টার দিকে এই ঘটনায় প্রেমিকের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রেমিকা। আমরণ অনশন থেকে কলেজছাত্রী ওই প্রেমিকা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে থানায়।

ওই কলেজ ছাত্রী, স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের আলিয়া মাদ্রাসাপাড়ার এক কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের হাইস্কুল পাড়ার মো. তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলামের এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এক পর্যায়ে আরিফ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ওই ছাত্রী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। তবে বিভিন্নভাবে তালবাহানা করে দৈহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে আরিফ।

এক পর্যায়ে নিরুপায় হয়ে গত সোমবার রাতে আরিফুলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয় ওই ছাত্রী। তখন প্রেমিকের পরিবার স্থানীয় ইউপি সদস্য তৌহিদুর রহমানকে দিয়ে মেয়েটিকে আশ্বাস দেয়, পরেরদিন মঙ্গলবার কুমিল্লা কোর্টে তাদের বিয়ে হবে। এরপর ওই রাতে মেয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। কিন্তু মঙ্গলবার দিন ও রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ছেলে পক্ষের কোন সাড়া না পাওয়ায় বুধবার বিকালে পুণরায় ওই কলেজছাত্রী বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আরিফুলের বাড়িতে আমরণ অনশন শুরু করেন।

এদিকে ওই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে যখন অনড়, ঠিক তখনই প্রেমিক আরিফুল ও তার পরিবার কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে গ্রামবাসীরা বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। এছাড়া প্রেমিক আরিফুলের সাথে বিয়ে না হলে আত্মহ ত্যা করবে বলেও হুমকি দিয়েছে ওই ছাত্রী।

ইউপি সদস্য মো.তৌহিদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘বিয়ের দাবিতে এক কলেজ ছাত্রীর অনশনের খবর শুনেছি। আরিফুল ও তার পরিবারের লোকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’ তবে মেয়ে বা তার পরিবারের কাউকে বিয়ের আশ্বাস দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.জহিরুল আনোয়ার বলেন, ‘বিয়ের দাবিতে ওই কলেজ ছাত্রীর অনশনের খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ওই ছাত্রী এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। সমস্যার সমাধান না হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন