বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন



নিজস্ব প্রতিবেদক ।
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই নগরীর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বেজে ওঠে ভাষা শহীদদের স্মরণে এই গান। একে একে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে মডেল কলেজ পরিবারের সবাই। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ ও সম্মান জানাতে প্রতিষ্ঠানটি এদিন আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।
ভোরে কলেজ অধ্যক্ষ ড. একেএম এমদাদুল হকের নেতৃত্বে প্রভাতফেরীর মধ্যদিয়ে কলেজের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শিক্ষক পরিষদ, স্বাউট দল,গার্লস গাইড। তার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় ভাষা শহীদদের। পরে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীতা।
সকাল সাড়ে ৯ টায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা শহিদদের স্বরণে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো.আবদুস ছালাম।সভাপতিত্ব করেন কলেজ অধ্যক্ষ ড.একেএম এমদাদুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজন কমিটির আহবায়ক পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হান্নান। আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহেল কবীর, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নারগিস আফরোজ, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু নায়ীম আল মামুন, শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মনির হোসেন। সঞ্চালনায় ছিলেন কলেজের চারু ও কারু কলা বিভাগের প্রভাষক ঝুমুর দাশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ছালাম বলেন, একটি জাতির পরিচিতি তার ভাষায়। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি জাতিসত্তাকে মুছে ফেলতে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু হাজার বছরের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতি এর প্রতিবাদ করে নিজের মাতৃভাষার স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছিলো। তাই এ ভাষার মৌলিকত্ব ধরে রাখতে হবে। সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার করতে হবে।
কলেজ অধ্যক্ষ ড.একে এম এমদাদুল হক বলেন, ভাষা আন্দোলন বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা ছিলো না। বাঙালির দীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের সূত্রপাত ছিলো বায়ান্ন, যা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত গড়ে দিয়েছিলো। ভাষার মর্যাদা রক্ষার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন সালাম-বরকতেরা, আমাদেরও তা অনুসরণ করতে হবে।
পরে অতিথিরা বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগীতায় প্রথম হয় ৮ম শ্রেনির ছাত্রী রুবাইতা ইসলাম ভূইয়া, দ্বিতীয় ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্রী কাজী মরিয়ম মাইশা, চিত্রাংক প্রতিযোগীতায় প্রথম হয় ৭ম শ্রেনির জারিন তাসনিম, দ্বিতীয় তৌহিদা আক্তার ও ৬ষ্ঠ শ্রেনির লগ্নজিৎ মজুমদার,তৃতীয় ৮ম শ্রেনির ফয়সাল মাহমুদ। রচনা প্রতিযোগীতায় কলেজ শাখায় প্রথম হয় একাদশ বিজ্ঞান শাখার ছাত্র তানভীরুল ইসলাম তুষার, দ্বিতীয় একই শ্রেনির পারভেজ হাছান রুমেল, তৃতীয় ইয়াছির আরাফাত। রচনা প্রতিযোগীতায় স্কুল শাখায় প্রথম হয় নবম শ্রেনির তাসনিয়া হায়দার, দ্বিতীয় একই শ্রেনির ফাহমিদা সুলতানা, তৃতীয় যৌথভাবে ৭ম শ্রেনির তাকওয়া ও ৬ষ্ঠ শ্রেনির মো.নাঈম।

আরও পড়ুন